গণভোট হ‍্যাঁ ভোট / না ভোট

গণভোট হ্যাঁ ভোট / না ভোট — জনমতের সাংবিধানিক মূল্যায়ন জুলাই সনদ কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর একক সিদ্ধান্ত নয়—এটি জনগণের সম্মতির মাধ্যমে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার বিষয়। এই হ্যাঁ ভোট / না ভোট প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো নাগরিকদের কাছে সনদের প্রতিটি ধারা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা, যাতে তারা জ্ঞানভিত্তিক ও বিবেচনাপূর্ণ মতামত দিতে পারেন। বাংলাদেশের সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। সেই সাংবিধানিক অধিকার থেকেই জনগণ এই সনদের বিষয়ে সম্মতি, অসম্মতি বা সংশোধনের দাবি জানাতে পারে। এই প্ল্যাটফর্মে— সনদের প্রতিটি বিষয় সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হবে “হ্যাঁ” ও “না”—উভয় মতের যুক্তি উপস্থাপন করা হবে নাগরিকরা সরাসরি তাদের মতামত জানাতে পারবেন জনমতের সারসংক্ষেপ ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হবে এটি কোনো রাজনৈতিক প্রচার নয়; এটি একটি স্বাধীন, জনভিত্তিক ও সাংবিধানিক মতামত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া। আপনার ভোট এখানে কেবল একটি মত নয়—এটি আপনার সাংবিধানিক ক্ষমতার প্রকাশ। সুপারিশ 'জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫' বাস্তবায়নে ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর জাতীয় ঐকমত্য কমিশন অবিলম্বে সরকারি আদেশ জারি করে একটি গণভোট আয়োজনের সুপারিশ করে। গণভোটে যে চার বিষয় থাকবে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে। আগামী জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে। সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হয়েছে- সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকবে। জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।

হ‍্যাঁ ভোট
Login to Vote
না ভোট
Login to Vote